Homeবিনোদনকেন কে-পপ'র জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁলো, সি-পপ কেন পারলো না?

কেন কে-পপ’র জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁলো, সি-পপ কেন পারলো না?

উঠতি বয়সি বা তরুণদেরও যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তোমরা কে-পপ বা কোরিয়ান পপ মিউজিক শোনো? অধিকাংশই হয়ত উত্তর দেবে, শুধু শুনিই না, খুব পছন্দ করি বলেই শুনি। কেউ কেউ আগ বাড়িয়ে বিটিএস-এর নামও বলে ফেলবে। এই মিউজিক বা মিউজিক ভিডিও নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। হয়ত কে-পপের ভাষা কেউ বোঝেন, বা কেউ বোঝেন না। তবুও কোনো এক বিশেষ আকর্ষণে দিন দিন এই উপমহাদেশ তো বটেই, বলা যায় বিশ্বব্যাপীই আরও জনপ্রিয় হচ্ছে এই মিউজিক।

সম্প্রতি কে-পপের তুমুল জনপ্রিয়তার কারণ অনুসন্ধান করেছে টাইম ম্যাগাজিন। তারা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে, এত দেশ থাকতে কীভাবে এই মিউজিক বিশ্বে ছড়ি ঘোড়াচ্ছে। এর বিপরীতে চীনা পপ বা সি-পপ কেন নিজের গণ্ডি থেকে বেরুতে পারেনি। 

টাইম বলছে, কে-পপের সাফল্যের পেছনে শুধু ভালো গান বা আকর্ষণীয় শিল্পী রয়েছে- তেমনটা নয়। বরং তারা মার্কেট চিন্তা করে মিউজিক করছে। কোন মিউজিক দিয়ে তারা বিশ্বজয় করতে পারবে, সে চিন্তা ও গবেষণা করেছে তারা। যার ফলও পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এখন তাদের রাজ। 

কে-পপের শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল নিজের খোলস ছেড়ে বের হওয়া। তারা চেয়েছিল, তারা কোরিয়ার সীমানা ছাড়াবে। নিজেদের মার্কেটকে তারা ছোট বিবেচনা করে বিশ্ববাজারকে তাদের মার্কেট নির্ধারণ করেছিল। লক্ষ্যই ছিল বিদেশি শ্রোতা। সেই চিন্তা থেকেই তারা শিল্পীদের তৈরি করে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করে। বিদেশি গীতিকার আর কোরিওগ্রাফার দিয়ে তারা তাদের মিউজিক আর ভিডিওর মানকে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়। ধীরে ধীরে কে-পপ হয়ে ওঠে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ‘বস’। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ সাইয়ের ‘গ্যাংনাম স্টাইল’। গানটি এতই জনপ্রিয়তা ছিল মাত্রাতীত। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে কে-পপের জনপ্রিয়তা। ইউটিউব, ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম কে-পপকে এমন দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়, যাদের কাছে প্রচলিত টেলিভিশন বা রেডিও দিয়ে পৌঁছানো কঠিন ছিল। এমন শ্রোতারা এ ধরনের গান তো শেয়ার করেছেনই, সঙ্গে বিভিন্ন ফ্যান কন্টেন্টও তৈরি করে শেয়ার করেছেন। এভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে যায় কে-পপ।

বিপরীতে চীনের বড় অভ্যন্তরীণ বাজারই অনেক ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির শিল্পীদের জন্য নিজ দেশের বিশাল দর্শক ও বাজারেই বড় বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন সম্ভব। ফলে দূরের দেশের দর্শকের রুচি বোঝা এবং তাদের জন্য আলাদা করে বিনিয়োগ করার চাপ তুলনামূলক কম। 

আরেকটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে সি-পপের। আর তা হলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। চীনে ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম সীমিত বা বন্ধ থাকায় চীনা শিল্পীদের ঘরোয়া ভক্তরা বিদেশি দর্শকের কাছে কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া একটু কঠিন। তাই দেশীয় জনপ্রিয়তা নিয়েই তাদের অনেককে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। 

টাইম এর বিশ্লেষণ আরও বলছে, চীনের বিনোদনশিল্পে সরকারি নিয়ন্ত্রণও একটি বাধা। শিল্পী ও ভক্তদের অনলাইন কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণ, আইডল তৈরির অনুষ্ঠান বন্ধ করা এবং বিনোদনজগতের ওপর নানা বিধিনিষেধ সৃজনশীলতার পরিসরকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

সূত্রঃ যমুনা টিভি

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments